প্রতারক দিপুর ফাঁদে পড়ে বোকা হয়েছেন সরকারি কর্মকর্তারাও!

আশরাফুল ইসলাম দিপু, বয়স মাত্র ২০। এই বয়সেই প্রতারণার মাধ্যমে তিনি বনে গেছেন কোটিপতি। তার প্রতারণার ফাঁদ এমন ছিল যাতে পড়েছেন খোদ সরকারি কর্মকর্তারাও। সাধারণ একজন নাগরিক হয়েও, কি করে সরকারি দফতরকে ঘোল খাওয়ান? রাষ্ট্রীয় সব উচ্চ পর্যায়ের দফতরের নামে ভুয়া প্রজ্ঞাপন বানিয়ে বাগিয়ে নেন কোটি কোটি টাকা। যদিও শেষপর্যন্ত হাতে হাতকড়া উঠেছে। তবে সরকারি দফতরকে বোকা বানানোর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্তের পরামর্শ দিয়েছেন সাবেক মন্ত্রীপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার।

পুলিশের ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো দেখে মনে হতেই পারে তিনি প্রশাসনের কোনও বড় কর্তা। ভোলা, কিশোরগঞ্জ, সিলেটে সরকারি প্রটোকলে এভাবেই সফর করেছেন বিশ বছর বয়সী কোটিপতি ভুয়া কর্মকর্তা দিপু। এমনকি সৌদি সরকারের ডাকে হজও করেছেন।

একই অঙ্গে যার এতো রুপ, কোথায় তার ক্ষমতার উৎস? এই প্রশ্নের উত্তর মেলে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নামে ভুয়া এই প্রজ্ঞাপনে। যেখানে তিনি মেজর জেনারেল পদমর্যাদার নিরাপত্তা গোয়েন্দা। আর পদায়ন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে।

এভাবেই সরকারি সফরের নির্দেশনা পাঠিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘোল খাওয়াতেন খোদ সরকারি লোকজনকে। কেউ-কেউ আবার তার মাধ্যমে নিয়োগ চান প্রশাসনে। তখন ভুয়া প্রজ্ঞাপন বানিয়ে হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা।

কেবল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ই নয়, পুলিশ সদরদফতর এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নামেও নকল প্রজ্ঞাপন বানিয়ে চালান বাণিজ্য। করোনা ঠেকাতে লোক দেখানো অর্থসহায়তা দিয়েও বাগিয়ে নেন এমন কোটি-কোটি টাকার চেক।

অবশেষে রাজধানীর পল্লবী থেকে অভিনব এই প্রতারককে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। কিন্তু প্রশ্ন হল, জেলা-উপজেলা প্রশাসন দেখভালের দায়িত্ব যাদের কাঁধে, তাদের বোকা বানানো কি এতোটাই সহজ? দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশন এমন এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.